‘শুধু এক দলের মাস্তানদের গ্রেপ্তারে ভোট সুষ্ঠু হবে না

আসন্ন গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করলে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ আসবে বলে মনে করেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী কাজী ফিরোজ রশিদ এমপি। তবে তিনি মনে করেন, এক্ষেত্রে শুধু বিরোধী দলগুলোর ‘মাস্তানদের’ গ্রেপ্তার করলে হবে না, সরকারি দলের ‘মাস্তানদেরও’ গ্রেপ্তার করতে হবে। শুক্রবার মধ্যরাতে বেসরকারি টেলিভিশন বাংলাভিশনের ‘গণতন্ত্র এখন’ টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।মোস্তাফা ফিরোজের উপস্থাপনায় এতে আলোচক হিসেবে আরও যোগ দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ উল আলম লেনিন ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মোফাজ্জল করিম।আগামী ১৫ মে গাজীপুর ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। দুই সিটিতেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
নির্বাচনের আগে দুই সিটিতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করছে বিএনপি। তারা দুই সিটিতে পুলিশের শীর্ষ দুই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে।কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা যত বেশি শক্তিশালী হবে, তত বেশি দেশের গণতন্ত্রের ভিত শক্তিশালী হবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই দুই সিটি নির্বাচনের গুরুত্ব অনেক। আগামী নির্বাচনের পূর্বাভাস এখানে পাওয়া যাবে।’জাতীয় পার্টির এই নেতা বলেন, ‘স্থানীয় সরকারের প্রতিটি নির্বাচনেই টানটান উত্তেজনা থাকে। এখানে মাস্তানদের কদর বেড়ে যায়, তখন পুলিশের দায়িত্বও বৃদ্ধি পায়। দুই সিটিতেই বড় দুই দল সর্বশক্তি দিয়ে নেমেছে। এখানে উত্তেজনা থাকবেই। উত্তেজনা যাতে নিজেদের আয়ত্বের বাইরে না যায়, সেজন্য পুলিশকেও কঠোর হতে হবে। শুধু একটি দলের মাস্তানদের গ্রেপ্তার করলে হবে না, অন্য দলেরও মাস্তানদের গ্রেপ্তার করতে হবে।’
‘আমরা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি’
সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচন হলো স্থানীয় সংস্থার নির্বাচন। এখানে প্রধান ইস্যু হলো এ সংস্থাগুলোর দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব কতটুকু থাকবে তা আমাদের দেশে পরিষ্কার নয়। যদিও সংবিধানে স্পষ্ট করে বলা আছে। আমার ধারণা সংবিধানে স্থানীয় সরকার নিয়ে আলাদা একটা চ্যাপ্টার বাংলাদেশ ছাড়া কোথাও নাই।’‘এটা হলো গভর্নিং অথরিটি নিজের এখতিয়ারের ভেতরে সমস্ত রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা করবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো আমরা কখনো স্বশাসিত স্থানীয় সরকারব্যবস্থা আমরা পরিচলনা করতে পারিনি। এখানে মনে হয় সংসদ সদস্যরাই হলো নির্বাচিত প্রতিনিধি, অন্যরা নয়। তারা অবশ্যই জনগণের প্রতিনিধি, তবে তাদের (সংসদ সদস্য) কাজ হলো দেশের আইন তৈরি করা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাজকর্মের তদারিক করা। এখানে তাদের (সংসদ সদস্য) কাজ সীমাবদ্ধ রেখে স্থানীয় সরকারের ওপর প্রশাসনিক আর্থিকসহ সব কর্তৃত্ব ছেড়ে দেয়া উচিত।’
সেলিম বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে বলা হয়, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ঠিক করা দরকার। কিন্তু এর আসল অর্থ কী? সব দল অংশ নিলেই অংশগ্রহণমূলক হবে না। এর প্রধান শর্ত হলো সব জনগণের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকা এবং ভোট দেয়ার অধিকার নিশ্চিত করা।’‘সিটি নির্বাচনের প্রার্থী হওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা জামানত ও ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ভোটার লিস্ট নিতে হয়। ৮০ হাজার টাকা খরচ করে তো সবাই প্রার্থী হতে পারবে না। এমন বিধি বিধানের জন্য দেশের ৯৫ ভাগ মানুষকে প্রার্থী হওয়া থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাতে কি অংশগ্রহণমূলক হলো।’সিপিবি সভাপতি বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে আমরা এক লোক, এক ভোট শ্লোগানে মিছিল করেছিলাম। স্বাধীন হওয়ার পরে আমরা তা করতে পারলাম না। জিয়াউর রহমানের আমল থেকে শুরু হয়েছিল ‘হ্যাঁ’ ‘না’ ভোট। এটা করে নির্বাচনব্যবস্থাকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। এরশাদ শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত আমরা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত করতে পারিনি।’

Comments